চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। কয়েকঘন্টা পরই জানা যাবে কে হচ্ছেন আগামী ৫ বছরের জন্য চট্টগ্রামের নগর পিতা। তবে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এই নির্বাচনে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির। নির্বাচনের দিনভর উত্তেজনা এবং উত্তাপের মধ্যে ঘুরে ফিরে এসেছে আ.জ.ম নাছিরের নাম। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ দুপক্ষের কাছেই নাছির ছিলেন ভিলেন। দুই দলই স্বীকার করেছে যে এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে, আ.জ.ম নাছিরের কারণে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন ‘প্রথম থেকেই আ.জ.ম নাছিরের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আবারও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচন কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।’ ঐ নেতা মনে করেন ‘চট্টগ্রামে আ.জ.ম নাছিরের একটি নিজস্ব কর্মী বাহিনী আছে। শুরু থেকে তার কর্মীরা ছিলেন দর্শকের মতো। এটি শুরুতেই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ব্যাকফুটে নিয়ে যায়।’
আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন ‘কেবল নীরবতা নয়, আ.জ.ম নাছির গোপনে আসলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’ তাদের মতে ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষের লোক। একারণেই আ.জ.ম নাছির প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করেন। তিনি প্রথম পর্যায়ের প্রচারণায় মরিয়া ছিলেন রেজাউল করিমকে কোণঠাসা করতে।’ আজ নির্বাচনের দিনও আওয়ামী লীগ শিবিরে আলোচনা হচ্ছিল, আ.জ.ম নাছিরের ভূমিকা নিয়ে। তারা বলছিলেন, নাছির ভাই ঠিক আছে তো। আ.জ.ম নাছিরের পরিচিত অনুসারীদের ভোটের দিন রীতিমতো নজরদারিতে রাখে আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপির চোখেও এখন আ.জ.ম নাছিরে ভিলেন। এই নির্বাচনের শুরুতেই আ.জ.ম নাছিরের ভূমিকার কারণেই বিএনপির ভরা গাঙ্গে জোয়ার এসেছিল। চট্টগ্রামের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়েছিল একবারই, সেটিও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। এবারও বিএনপি আশা করেছিল, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য বিএনপি এবারও বাজিমাৎ করবে। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত আ.জ.ম নাছির আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে বিএনপির কাছেও ভিলেন পরিণত হয়েছেন নাছির।