চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের অধ্যায় শেষ হচ্ছে। নতুন মেয়র শপথ নিলেই প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিতে হবে আওয়ামী লীগের ত্যাগী পরীক্ষিত এই নেতাকে। খোরশেদ আলমের উত্থান যেন হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো। দেশে করোনার আগেই চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখিয়েছিল। তৎকালীন মেয়র আ.জ.ম নাছিরকে বাদ দিয়ে নিরীহ,কলঙ্ক ও বিতর্কমুক্ত রেজাউল করিম চৌধুরীর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছিল কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেয়া হলো। অন্যদিকে নাছিরের মেয়াদও শেষ হলো। অনেকেই মনে করেছিলেন, পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নাছিরই হয়তো মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন। এধরনের উদাহরণও অতীতে ছিলো। এমনকি বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা, আওয়ামী লীগ শাসনামলেও বিনা নির্বাচনে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। কিন্তু আ.জ.ম নাছির যে কারণে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন পাননি, ঠিক একই কারণে মেয়াদের পর তিনি থাকতে পারলেন না। ৬ আগস্ট সরকার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেন। এখানেও চমক দেখান শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের ত্যাগী পরিক্ষিত এবং সংগ্রামী নেতা, চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। সুজন ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের বিরল নেতা, যিনি আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও কিছু পাননি। মাত্র ৬ মাসের কিছু কম সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন সুজন। এই সময়ের মধ্যে অনেক সম্ভাবনার স্বাক্ষর রেখেছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও মহানগরীর উন্নয়ন তিনি একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, স্বল্প সময়ে তিনি তার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পেরেছেন। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক মহলও তার গত ৬ মাসের কার্যক্রমে খুশী। তাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর, প্রশ্ন উঠেছে সুজনের গন্তব্য কি? তাকে কি আওয়ামী লীগ সভাপতি নতুন কোন এসাইনমেন্ট দেবেন। নাকি এই সান্ত্বনা পুরস্কারই শেষ হবে তার প্রাপ্তির খাতা? চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে এটা এখন বড় টকিং পয়েন্ট।