ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের শিরযুগ গ্রামের ১৬ বছরের কিশোর তামিম ইসলাম মুন্সী জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন।
তার দুটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল। ডাক্তারদের মতে, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তার জীবন বিপন্ন।
বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস চলছে, যার প্রতি সেশন খরচ ৮–১০ হাজার টাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তামিম দিনমজুর মো. আনিস মুন্সী ও গৃহিণী মনজু খানমের বড় সন্তান। তার ছোট বোন তানিশা (৯) কষ্টে ভেঙে পড়েছে।
তানিশা কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, “আমি চাই আমার ভাই সুস্থ হয়ে আবার মাদ্রাসায় ফিরুক। আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করব, খেলব।”
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ১০–১২ লাখ টাকা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। তামিমের মা মনজু খানম নিজের একটি কিডনি দানে প্রস্তুত এবং রক্তের গ্রুপও মিলেছে। তবে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশন এখনও করা সম্ভব হয়নি।
তামিমের বাবা মো. আনিস মুন্সী বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য জমি-জমা, সহায়-সম্বল সব বিক্রি করেছি।
এখন নদীর তীরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছি। আমি শুধু চাই, আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে আবার পড়ার টেবিলে ফিরুক।”
শিরযুগ দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নূরুল আমিন বলেন, “তামিম অত্যন্ত ভদ্র, ধার্মিক ও মেধাবী ছাত্র। সে আবার মাদ্রাসায় ফিরে পড়াশোনা শুরু করুক—এটাই আমাদের কামনা।”
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে তামিমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আল মামুন তালুকদার জানান, প্রাথমিকভাবে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।
উপজেলা হাসপাতালসহ বরিশালে যেখানে ডায়ালাইসিস হচ্ছে, সেখানে সর্বনিম্ন খরচে সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
পরিবার ও এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিকাশ (তামিমের মা): ০১৭৮০০৪১৬৬৮
বিস্তারিত খবরের জন্য ভিজিট করুন — প্রিয় বরিশাল