বরিশাল: রাষ্ট্রীয় নৌ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসি প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার শেষে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’কে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে পর্যটক সার্ভিস হিসেবে চালু করলেও বাস্তবে জাহাজটির আর দেখা নেই। ফলে বরিশালবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা থেকে বরিশালে প্রথম যাত্রা এবং ২৯ নভেম্বর ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে ১৫ নভেম্বর নৌ পরিবহন উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটির উদ্বোধন করেন। এমনকি তিনি নিজেও ঢাকা-চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে পরীক্ষামূলক ভ্রমণ করেছিলেন।
তবে ৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বাণিজ্যিক যাত্রায় বরিশালে আসার পর ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পর থেকেই পিএস মাহসুদ আর বরিশালমুখী হয়নি।
পরে ১২ ডিসেম্বর কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক নিয়ে নৌ ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভ্রমণের পর জাহাজটি ইজারাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে ‘গ্রিন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’ মাসিক ১ লাখ ৪১ হাজার টাকায় নৌযানটি ইজারা নেয়।
যদিও বিআইডব্লিউটিসি আগে জানিয়েছিল, সপ্তাহে অন্তত একদিন বরিশাল-ঢাকা রুটে চলবে পিএস মাহসুদ।
কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত আর কার্যকর হয়নি।
সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইজারাদার তাদের বাণিজ্যিক সুবিধা বিবেচনায় নৌযান পরিচালনা করছে। ফলে শুক্রবার ঢাকা ও শনিবার বরিশাল থেকে চলাচলের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। গত দুই মাসে একবারও বরিশালবাসী পিএস মাহসুদের হুইসেল শোনেনি।
ইজারাদার প্রতিষ্ঠানটি জাহাজে কর্মরত ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রায় ২ লাখ টাকা এবং ইজারা বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করছে।
ছয় মাসের ভাড়া আগাম দিয়ে দুই বছরের জন্য চুক্তি করা হয়েছে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস পিএস মাহসুদ পুনরায় চালুর বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, “কোনো ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।”
পাশাপাশি তিনি দেশের পুরনো প্যাডেল স্টিমারগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন জানান, পিএস মাহসুদ শুধু একটি জাহাজ নয়—এটি বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক।
তিনি পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস লেপচাসহ অন্য স্টিমার সংস্কারের কথাও জানান।
তবে ইতোমধ্যে পিএস অস্ট্রিচের ইজারা প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে। অতীতে এই জাহাজ অবৈধ ইজারায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অন্যদিকে পিএস লেপচা ও পিএস টার্ন বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
ফলে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে নির্মিত এসব প্যাডেল স্টিমার ১৯৩৮–৪৮ সালে কলকাতায় সংযোজন করা হয়।
দেশভাগের পর পিএস মাহসুদসহ কয়েকটি জাহাজ পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। পরবর্তীতে এগুলো ঢাকা-বরিশাল ও খুলনা রুটে দীর্ঘদিন যাত্রী পরিবহন করেছে।
অবশেষে দীর্ঘ অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে ২০২০ সালে পিএস মাহসুদসহ সব প্যাডেল জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও বরিশালের খবর পড়ুন:
প্রিয় বরিশাল