ঝালকাঠির নলছিটিতে এক গৃহবধূর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেল, কয়েক দফায় ধর্ষণ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক স্কুল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম জাহিদুল ইসলাম (৩৫), যিনি নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও ল্যাব অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুন মাসে প্রতিবেশী ওই নারীর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করেন জাহিদুল।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং।
ফলে লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী জাহিদুলকে দফায় দফায় টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বাধ্য হন, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা।
তাছাড়া, কেবল অর্থ আদায় করেই ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত জাহিদুল। ভিডিওর ভয় দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর ভুক্তভোগীকে বাড়িতে একা পেয়ে আবারও তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
দীর্ঘদিনের এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন ওই নারী।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান আকন্দ।
তিনি জানান, অভিযুক্ত ল্যাব অপারেটরকে বিধি মোতাবেক দ্রুত সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।