আগামী ২৩ মার্চ ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কৃষক আন্দোলনে যখন নিজ দেশে তিনি নাস্তানাবুদ। ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে যখন গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বলা হচ্ছে। সেসময় উপমহাদেশেও ভারত চাপের মুখে, তখন ইমেজ উদ্ধারের মিশন হিসেবে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদীর এবারের বাংলাদেশ সফর নিয়ে সাউথ ব্লক এবং বিজেপি যেভাবে তৎপর, অন্য সময় তা দেখা যায়নি। ভারতের কূটনীতিক মহল থেকে এই সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সফরে কি ধরনের ঘোষণা দেয়া হতে পারে, তা নিয়ে কাজও করছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র গুলো বলছে এই সফরের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের হৃদয় জয় করতে চান।
এই সফরে আরো ভিসা সহজীকরণের ঘোষণা আসতে পারে। আরো কিছু ক্ষেত্রে নো ভিসার ঘোষণা দিতে পারে ভারত সরকার। এছাড়াও বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত আরো কিছু ঘোষণা দেয়া হতে পারে। এবারের সফরে তিস্তার পানি চুক্তি সম্পর্কিত কোন ঘোষণা আসবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু ২৩ মার্চের আগেই পশ্চিম বাংলার মমতা সরকারের সঙ্গে এনিয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে মোদী সরকার। এই সফরে নরেন্দ্র মোদী টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে যেতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি যেতে চান। ভারতের কূটনীতিক সূত্র গুলো বলছে, সীমান্ত হত্যা বন্ধ সহ বিভিন্ন বিষয়ে মোদী নাটকীয় ঘোষণা দিতে পারেন।কূটনৈতিক মহল বলছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরতের ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।
তবে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দুটি কারণে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রথমত, বাংলাদেশে চীন-পাকিস্তানের প্রভাব ঠেকানো। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের বিস্তৃতি বাড়ানো। নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময়েই পাকিস্তান ৭১ এর গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে বলে আশংকা করছে ভারত। এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য হবে মোদীর সফরের গুরুত্ব কমানো। এজন্য নরেন্দ্র মোদীর সফরকে অনেক বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় ভারত। আর একারণেই, ফেব্রুয়ারিতে আবার বাংলাদেশ সফরে আসছেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।